| হুয়াজিয়াং গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ব্রিজ |
হুয়াজিয়াং গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ব্রিজটি হলো একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময়, যা বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ সেতু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এটি চীনের গুইঝো প্রদেশে হুয়াজিয়াং গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত বেইপান নদী (Beipan River)-কে অতিক্রম করেছে।
প্রধান তথ্য ও রেকর্ড:
|
বৈশিষ্ট্য |
তথ্য |
|
অবস্থান |
গুইঝো প্রদেশ, চীন। |
|
যে নদী অতিক্রম করেছে |
বেইপান নদী (Beipan River) |
|
ধরণ |
সাসপেনশন (ঝুলন্ত) ব্রিজ, স্টিল ট্রাস সহ। |
|
সর্বোচ্চ উচ্চতা (ক্লিয়ারেন্স) |
৬২৫ মিটার (২,০৫১ ফুট)। সেতুটির ডেক এবং নদীর জলের স্তরের মধ্যে এই বিশাল উল্লম্ব দূরত্ব এটিকে বর্তমান বিশ্বে সর্বোচ্চ সেতু (Highest Bridge in the
World) হওয়ার রেকর্ড এনে দিয়েছে। |
|
মোট দৈর্ঘ্য |
২,৮৯০ মিটার (প্রায় ২.৮৯ কিলোমিটার)। |
|
প্রধান স্প্যান |
১,৪২০ মিটার (৪,৬৫৯ ফুট)। এটি পাহাড়ি ভূখণ্ডে নির্মিত বৃহত্তম স্প্যান-যুক্ত সাসপেনশন ব্রিজগুলোর মধ্যে অন্যতম। |
|
বহন করে |
গুইঝো S57, লিউঝি-আনলং এক্সপ্রেসওয়ে। |
|
লেন সংখ্যা |
৪টি। |
|
নির্মাণ শুরু |
১৮ জানুয়ারি ২০২২। |
|
যান চলাচলের জন্য উদ্বোধন |
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ (নির্ধারিত/আনুমানিক তারিখ)। |
|
ব্যয় |
প্রায় ২৮০ মিলিয়ন ডলার। |
ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি:
- কাঠামো: সেতুটি সাসপেনশন (ঝুলন্ত) এবং স্টিল ট্রাস কাঠামোর একটি সংমিশ্রণ ব্যবহার করে নির্মিত হয়েছে। মূল স্প্যান জুড়ে ইস্পাতের ট্রাসগুলি লোড-বহনকারী পথ তৈরি করেছে, যার মোট ওজন প্রায় ২২,০০০ টন, যা প্রায় তিনটি আইফেল টাওয়ারের ওজনের সমান।
- চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা: সেতুটি একটি অত্যন্ত রুক্ষ কার্স্ট ভূখণ্ডে এবং এমন একটি অঞ্চলে নির্মিত হয়েছে যেখানে তাপমাত্রা এবং উপত্যকার বাতাসের তীব্র পরিবর্তন ঘটে। ইঞ্জিনিয়াররা উচ্চ বাতাস এবং ভূতাত্ত্বিক অস্থিরতা সহ্য করার জন্য উন্নত নকশা এবং বিশেষ ব্যবস্থা ব্যবহার করেছেন।
- টাওয়ার: সেতুর প্রধান সাসপেনশন ক্যাবল ধরে রাখার জন্য দুটি বিশাল স্তম্ভ (pylons) রয়েছে, যার মধ্যে একটির উচ্চতা প্রায় ২৬২ মিটার এবং অন্যটি প্রায় ২০৫ মিটার।
প্রভাব এবং তাৎপর্য:
- সময় হ্রাস: এই সেতু নির্মাণের প্রধান উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে একটি হলো যোগাযোগ সহজ করা। সেতুটি ক্যানিয়ন পারাপারের সময়কে নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেবে। আগে যেখানে এই পথ পার হতে প্রায় ৭০ মিনিট (বা কিছু রুটে ২ ঘণ্টা) লাগত, সেখানে এখন মাত্র এক থেকে দুই মিনিট সময় লাগবে।
- অর্থনৈতিক উন্নয়ন: সেতুটি লিউঝি এবং আনলং বিশেষ জেলার মতো দূরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলগুলির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- পর্যটন আকর্ষণ: ৬২৫ মিটার উচ্চতার এই সেতুটি নিজেই একটি প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হিসাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এখানে কাঁচের মেঝেযুক্ত পথ (glass-bottom
pedestrian paths), পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম এবং
টাওয়ারের উপরে এলিভেটরের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের ক্যানিয়নের শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য দেখার সুযোগ দেবে। কর্তৃপক্ষের আশা, প্রতি বছর অন্তত ১০ লাখ পর্যটক এখানে আসবেন।
0 মন্তব্যসমূহ