বিসিবির ১৫তম সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফারুক আহমেদ। ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত হয়ে সভায় উপস্থিত পরিচালকদের রায়ে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন ফারুক। এর আগে এক ই-মেইল বার্তায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ২০১২ সালে সরকার-মনোনীত সভাপতি হিসেবে বিসিবির দায়িত্ব নিয়েছিলেন নাজমুল হাসান। ২০১৩ সালের অক্টোবরে হন নির্বাচিত সভাপতি। সেই থেকে নাজমুলই তিন মেয়াদে বিসিবি সভাপতির দায়িত্বপালন করেছেন। আগামী বছরের অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা ছিল নাজমুল হাসানের পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তার আগেই সরে দাঁড়ালেন তিনি।

ফারুক আহমেদ বাংলাদেশের জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্বকারী সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন। ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হলেও দলের প্রয়োজনে উদ্বোধনী জুটিতেও তিনি মাঠে নামতেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করছেন। ২১ আগস্ট ২০২৪ খ্রি. তিনি বিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হন।

ফারুক আহমেদের জন্ম ১৯৬৬ সালের ২৪ শে জুলাই তদানিন্ত পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকার বিক্রমপুরে। ফারুক আহমেদ ঢাকার মোহাম্মদপুরের সরকারি রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে এসএসসি এব এইচএসসি পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে অনার্স সম্পন্ন করেছেন।

খেলোয়াড়ী জীবন

১৯৮৮ সালের ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এশীয়া কাপ ক্রিকেটের ৪র্থ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়াহিদুল গণি ও আকরাম খানের সাথে তারও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ফারুক আহমেদ ওপেনিংএ নেমে ১৪ রান সংগ্রহ করেন। খেলায় বাংলাদেশ ১৭৩ রানে পরাজিত হয়ে।

খেলোয়াড়ী জীবনের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফারুক নিজেকে সফলতম অধিনায়ক হিসেবে গড়ে তোলেন। এরফলে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে দল নির্বাচকমণ্ডলী তাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মনোনীত করে। কিন্তু তার অধিনায়কত্বে কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৯৯৪ সালের আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশ দল সেমি-ফাইনালে পৌঁছতে পারেনি; যদিও বাংলাদেশ দলকে প্রতিযোগিতার পূর্বেই শ্রেষ্ঠতর দল হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। এ প্রতিযোগিতার পর অধিনায়কত্বসহ দল থেকে বাইরে চলে যেতে হয় তাকে। এরপর তিনি নবোদ্দ্যমে দলে ফিরে আসেন ও শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

১৯৯৯ সালের ২৭ মে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চেস্টার-লে-স্ট্রীটে তার শেষ ওয়ানডে খেলেন। ফারুক আহমেদ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে মোট ৭টি ম্যাচে খেলেছেন। ৭ ইনিংসে ব্যাট করে মোট ১০৫ রান সংগ্রহ করেন। ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ৫৭। যা তিনি ১৯৯০ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভারতের চন্ডিগড়ে এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে সংগ্রহ করেন। এ খেলায় তৃতীয় উইকেট জুটিতে আতহার আলী খানের সাথে ১০৮ রানের জুটি গড়েন।

ফারুক আহমেদ ১৯৯৯ সালের ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন।

বোর্ডে পূর্বের ভূমিকা

ফারুক আহমেদ ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ের মধ্যে, তিনি সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং তামিম ইকবালের মতো তরুণদের সুযোগ দিয়েছিলেন যারা পরবর্তীতে দেশের ক্রিকেটকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যায়।

দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৩ সালে ফের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পান ফারুক। তার অধীনে ২০১৫ সালে একটি সফল বিশ্বকাপের পর, বাংলাদেশ ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ জিতে নেয়। তবে হঠাৎ করেই বিসিবিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং নির্বাচকের কাজে হস্তক্ষেপ শুরু হয়।

ফারুক আহমেদ ২০১৬ সালে বিসিবির বহু-স্তরের নির্বাচক কমিটি, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং সীমাহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন, যা বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

এরপর তিনি ক্রিকেট থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। ৮ বছর পর তিনি ফিরছেন একদম সর্বোচ্চ পদে। ফারুকই প্রথম কোন ক্রিকেটার যিনি সভাপতির আসনে বসলেন। স্পষ্টভাষী ফারুক আহমেদ বিসিবির সভাপতি হওয়ায় অনেক ভক্ত স্বপ্ন দেখছেন দেশের ক্রিকেট নতুনভাবে এগিয়ে যাবে।

এখন দেখা যাক বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ক্রিকেটের বর্তমান দুঃসময় কাটিয়ে তিনি ক্রিকেটকে কত দূর নিয়ে যান।