বিদ্যমান
এবং পরিকল্পিত প্রকল্পগুলোর ওপর ভিত্তি করে, চীনের মোট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন
ক্ষমতা প্রায় ১৮৬ গিগাওয়াটে (GW) পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকেও
ছাড়িয়ে যাবে। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নির্ভরযোগ্য এবং স্বল্প-কার্বন
শক্তি নিশ্চিত করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টাকেই এই পরিবর্তন প্রতিফলিত করে।
গ্লোবাল
এনার্জি মনিটর (Global Energy
Monitor)-এর তথ্য ব্যবহার করে এই
চার্টে দেশগুলোকে তাদের বর্তমান এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা অনুযায়ী সাজানো
হয়েছে।
দেশভেদে পারমাণবিক শক্তির প্রসারের চিত্র
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ১০২,৪৭৫ মেগাওয়াট (MW) ক্ষমতা নিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে, যা ফ্রান্সের তুলনায় ৩৫,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি। চীন বর্তমানে ৬০,৮৯৮ মেগাওয়াট নিয়ে তৃতীয়
অবস্থানে থাকলেও, নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু হওয়ার সাথে সাথে এই অবস্থার
পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন
দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা নিচে দেওয়া হলো:
|
দেশ |
বর্তমানে সচল (GW) |
সম্ভাব্য পারমাণবিক শক্তি (GW) |
মোট ভবিষ্যৎ ক্ষমতা (GW) |
|
চীন |
৬০.৯ |
১২৪.৯ |
১৮৫.৮ |
|
যুক্তরাষ্ট্র |
১০২.৫ |
১৫.৪ |
১১৭.৯ |
|
ফ্রান্স |
৬৫.৭ |
৯.৯ |
৭৫.৬ |
|
রাশিয়া |
২৮.৬ |
৩২.২ |
৬০.৭ |
|
ভারত |
৮.২ |
৩১.৫ |
৩৯.৭ |
|
দক্ষিণ
কোরিয়া |
২৭.১ |
৫.৬ |
৩২.৭ |
|
ইউক্রেন |
১৩.৮ |
৮.৪ |
২২.৩ |
|
জাপান |
১৩.৩ |
৬৬.৬ |
১৯.৮ |
|
উগান্ডা |
০.০ |
১৮.০ |
১৮.০ |
|
কানাডা |
১৪.৬ |
২.৫ |
১৭.২ |
|
পোল্যান্ড |
০.০ |
১৫.৬ |
১৫.৬ |
|
যুক্তরাজ্য |
৬.৫ |
৮.৯ |
১৫.৪ |
|
তুরস্ক
(তুর্কিয়ে) |
০.০ |
১৪.৭ |
১৪.৭ |
|
চেক
প্রজাতন্ত্র |
৪.২ |
৫.৭ |
৯.৯ |
|
কাজাখস্তান |
০.০ |
৯.৬ |
৯.৬ |
|
ইরান |
১.০ |
৭.৪ |
৮.৪ |
|
স্পেন |
৭.৪ |
০.০ |
৭.৪ |
|
সুইডেন |
৭.২ |
০.০ |
৭.২ |
|
সংযুক্ত
আরব আমিরাত |
৫.৭ |
০.০ |
৫.৭ |
|
কেনিয়া |
০.০ |
৫.০ |
৫.০ |
এই পরিবর্তনের বড় ধরণের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। যেসব
দেশ পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে, তারা আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর
নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গ্রিড স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করতে পারবে।
যদি পরিকল্পিত সব প্রকল্প সম্পন্ন হয়, তবে চীন ১৮৫,৮১২
মেগাওয়াট নিয়ে শীর্ষে থাকবে, এরপর থাকবে যুক্তরাষ্ট্র (১১৭,৯১০ মেগাওয়াট) এবং
ফ্রান্স (৭৫,৫৯০ মেগাওয়াট)। ফ্রান্স পারমাণবিক শক্তিতে ঐতিহাসিকভাবেই
শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে টিকে আছে, তাদের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৬৯% এই প্রযুক্তি
থেকেই উৎপাদিত হয়।
যুক্তরাজ্য ছিল বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক পারমাণবিক
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসস্থল, যা ১৯৫৬ সালে চালু হয়েছিল; তবে পরবর্তীতে তারা
পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার কমিয়ে দেয়। বর্তমানে সরকার একটি "পারমাণবিক
স্বর্ণযুগের" লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যদিও তাদের বর্তমান অঙ্গীকার অনুযায়ী
১৫,৩৯৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা নিয়ে দেশটি বিশ্বে ১২তম অবস্থানে থাকবে।
বর্তমানে কোনো সক্ষমতা নেই এমন ১৭টি দেশের মধ্যে
উগান্ডা সবচেয়ে বেশি ১৮,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে, এরপর রয়েছে
পোল্যান্ড (১৫,৬১২ মেগাওয়াট) এবং তুরস্ক (১৪,৭০০ মেগাওয়াট)।
পারমাণবিক ফিউশন ও ফিশনের ওপর বাজি
বর্তমান পারমাণবিক প্রসারের মূলে রয়েছে ফিশন (Fission) প্রযুক্তি, যা বিদ্যমান সব রিঅ্যাক্টর বা চুল্লিতে
ব্যবহৃত হয় এবং বিশ্বের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১০% নিশ্চিত করে। এটি একটি
পরিণত প্রযুক্তি হওয়া সত্ত্বেও এখন আরও উন্নত হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ও মডুলার
ডিজাইনের মাধ্যমে খরচ কমানো, নিরাপত্তা বাড়ানো এবং দ্রুত স্থাপনের চেষ্টা চলছে।
এই কারণেই সম্ভাব্য সক্ষমতার তালিকায় কেবল বড় আকারের
বিদ্যুৎ কেন্দ্রই নয়, বরং সরকারি ও বেসরকারি পুঁজি সহায়তাপুষ্ট ছোট রিঅ্যাক্টরেরও
আধিক্য দেখা যাচ্ছে।
একই সময়ে, পারমাণবিক ফিউশন (Nuclear
Fusion) বা
সূর্যের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াটি একটি দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হিসেবে রয়ে গেছে।
ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ এবং সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সত্ত্বেও এটি এখনও
বাণিজ্যিক স্তরে পৌঁছাতে পারেনি।
আপাতত, বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক প্রসারের ভিত্তি হচ্ছে ফিশন, কারণ দেশগুলো এখন নির্ভরযোগ্য এবং স্বল্প-কার্বন শক্তির ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছে যা আগামী দশকের মধ্যেই স্থাপন করা সম্ভব।

0 মন্তব্যসমূহ