প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছিলেন শিক্ষকতা পেশায়। সেখান থেকে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা। পরে ওই ব্যাংককে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বেও সুনাম কুড়িয়েছিলেন ইউনূস।
১৯৪০ সালের
২৮শে জুন চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ
ইউনূস। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় মুহাম্মদ ইউনূস মেধা তালিকায়
১৬তম স্থান অধিকার করেন এবং চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৭ সালে মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই বিএ এবং
এমএ পাশ করেন।
সালেহউদ্দিন আহমেদ
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশে গতকাল
বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। ১৭ সদস্যের এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
উপদেষ্টাদের একজন সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর। তিনি এখন
ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক।
সালেহউদ্দিন পুরান ঢাকায় মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
তার পৈত্রিক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর (দরিশ্রীরামপুর)
গ্রামে। তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি এবং ঢাকা
কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৬৯ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর
ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে তার দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর এবং ১৯৭৮ সালে কানাডার
হ্যামিল্টন শহরে অবস্থিত ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি
লাভ করেন।
সালেহউদ্দিন ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির
প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনে সিভিল সার্ভিস অব
পাকিস্তান (সিএসপি) ক্যাডারে যোগ দেন। তিনি ঢাকা জেলার সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ
পান। তিনি পিরোজপুর জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি
ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অন হিউম্যান রিসোর্স ডেভলপমেন্টে কাজ করেন, যা পরবর্তীকালে
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভলপমেন্ট স্টাডিজের সাথে একীভূত হয়। এছাড়া তিনি এশিয়া
ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কেন্দ্র (সিরডাপ)-এর গবেষণাপ্রধান
হিসেবে কাজ করেন।
তিনি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন
একাডেমী (বার্ড)-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর
কার্যালয়ের অধীন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ সাল
পর্যন্ত পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তিনি
১৯৯৮ সালে ব্র্যাকে ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ
ব্যাংকের নবম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. ফখরুদ্দীন আহমদ দায়িত্ব ত্যাগের
পর তিনি ২০০৫ সালের ১ মে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন এবং ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল
পর্যন্ত এই পদে অধিষ্টিত থাকেন।
গভর্নরের পদ থেকে অবসরের পর ২০০৯ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ২০১৪ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায়
প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ট্রাস্টি।
২০২০ সালে সালেহউদ্দিন আসা ইন্টারন্যাশনালে স্বাধীন পরিচালক
হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি অমুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড
সোশ্যাল অ্যাকশনের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তিনি এনজিও ফোরামের সাধারণ কমিটির সদস্য। তিনি
টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানকারী কোম্পানি গ্রামীণফোনের স্বাধীন পরিচালক। তিনি
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের
উপদেষ্টা।
তিনি
অর্থনীতি ও ব্যাংক খাত নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার লেখা বইসমূহ :
*
উন্নয়ন কল্যাণ অর্থনীত,
*
অর্থনীতি বিষয়ক নিবন্ধগুচ্ছ,
*
গভর্নরের স্মৃতিকথা।
আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুলের জন্ম ১২ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালে কুমিল্লার হোমনা আসিফ নজরুল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ১৯৮৬ সালে স্নাতক ও ১৯৮৭ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন
করেছেন। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ
থেকে আন্তর্জাতিক আইনে পিএইচডি লাভ করেন আসিফ নজরুল। পরবর্তীতে জার্মানীর বন শহরের
ইনভায়রনমেন্টাল ল' সেন্টার থেকে তিনি পোস্ট ডক্টরেট ফেলোশিপ অর্জন করেন। তিনি স্কুল
অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে একজন কমনওয়েলথ ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন।
১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পূর্বে আসিফ নজরুল
একটি বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক পত্রিকা বিচিত্রায় কাজ করতেন। তিনি কিছু সময় বাংলাদেশ
সরকারের একজন সরকারি কর্মকর্তা (ম্যাজিস্ট্রেট) হিসেবে কাজ করেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক
বিভিন্ন মিডিয়ায় তাকে প্রায়ই দেখা যায়। যেমন: বিবিসি, সিএনএন এবং আল জাজিরা ইত্যাদি।
ইউএনডিপি, এডিবিসহ মানবাধিকার সংস্থা, আইনের শাসন, পরিবেশগত সমস্যা ইত্যাদি ভিত্তিক
বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে তার কনসালট্যান্ট হিসাবে কাজ করার অনেক অভিজ্ঞতা
আছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন।
২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে আসিফ নজরুল বাংলাদেশি লেখক হুমায়ূন আহমেদের
মেয়ে শীলা আহমেদকে বিয়ে করেন। তার প্রাক্তন স্ত্রী ছিলেন অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী।
তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক কয়েক বছর স্থায়ী ছিলো (বিবাহ ২০০১; বিচ্ছেদ. ২০১২)।
আসিফ নজরুল একজন জনপ্রিয় কলামিস্ট ও মানবাধিকারকর্মী। তিনি অনেকগুলো
বইয়ের সহলেখক। তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জার্নাল ও বইয়ে সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক
আইনি বিষয়ের ওপর গবেষণাপত্র লিখেছেন।
২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের
ব্যুরোর সদস্য ছিলেন আসিফ নজরুল। তিনি সুশাসন, ন্যায়বিচারের অধিকার, মানবাধিকারসহ
বিভিন্ন বিষয়ে ইইউ ডেলিগেশন ইন বাংলাদেশ, ইউএনডিপি, এডিবি, ডিএএনআইডিএ, এসআইডিএ,
কেয়ার, টিআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থার পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।
আদিলুর রহমান খান
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হয়েছেন
আদিলুর রহমান খান। আদিলুর রহমান খান
একজন বাংলাদেশী আইনজীবী, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, মানবাধিকার কর্মী এবং মানবাধিকার
সংস্থা অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ২০২৪ সালে গঠিত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
একজন উপদেষ্টা।
আদিলুর রহমান খানের জন্ম ২৩ ডিসেম্বর ১৯৫২ (বয়স ৭১) সিলেটে। তিনি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। স্বৈরশাসক এইচ
এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
আদিলুর
রহমান খান এবং সুশীল সমাজের অন্যান্য সদস্যরা ১০ অক্টোবর, ১৯৯৪ সালে মানবাধিকার সংস্থা
অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সম্পাদক আদিলুর
রহমান খান।
২০১৩ সালের ৫-৬ মে রাজধানীর মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নিয়ে ‘অসত্য-বিকৃত তথ্য প্রচারের’ অভিযোগে
দায়ের করা মামলায় তাঁকে ও তাঁর সহকর্মী অধিকারের পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিনকে
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁরা একই বছরের অক্টোবরে
জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ২০২২ সালে সরকার ‘অধিকার’-এর নিবন্ধন বাতিল করে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের শেষ মেয়াদে আদিলুর রহমান খান ডেপুটি
অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন।
এ এফ হাসান আরিফ
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশে গতকাল
বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। ১৭ সদস্যের এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
উপদেষ্টাদের একজন এ এফ হাসান আরিফ।
এ.এফ. হাসান আরিফ একজন
বাংলাদেশী আইনজীবী, বাংলাদেশের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি, এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়
বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার
পদত্যাগের পর গঠিত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন।
তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি ১৯৭০ সাল
থেকে আইন পেশার সঙ্গে জড়িত আছেন। তিনি ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৫ সালের এপ্রিল
পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের জানুয়ারি
পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন।
হাসান আরিফ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৬৭ সালে ভারতের
পশ্চিম বাংলার কলকাতা হাইকোর্ট থেকে। এরপর ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং হাইকোর্টে
আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব
পালন করেছেন এর আগে। এর মধ্যে আছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মোংলা
বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন লিমিটেড এবং গ্রামীণফোন
বাংলাদেশ। তিনি বর্তমানে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কমপ্লেক্সের উপদেষ্টা।
এম তৌহিদ হোসেন
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। ১৭
সদস্যের এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের একজন এম তৌহিদ হোসেন। তিনি বাংলাদেশ
সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব। তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৯১ সালে পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগদান
করেন এম তৌহিদ হোসেন। তিনি ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
ফরেন সার্ভিস একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।
তৌহিদ হোসেন ২০০১ সাল থেকে
২০০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্বপালন
করেন। তিনি ২০০৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রসচিব ছিলেন। ২০১২ সালের জুন মাসে
তৌহিদ হোসেন দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। তিনি আন্তর্জাতিক
নানা বিষয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি করেন। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়
তিনি গবেষণায় যুক্ত আছেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে
তিনি ‘প্রস্পেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন বাংলাদেশ রিলেশনশিপ উইথ জার্মানি অ্যান্ড
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ শীর্ষক প্রবন্ধ লেখেন।
এম সাখাওয়াত হোসেন
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য সংখ্যা হচ্ছে ১৭ জন।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) এই সরকারের ১৭ সদস্যের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। ১৬ উপদেষ্টার একজন
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
এম সাখাওয়াত হোসেন একজন
বাংলাদেশী লেখক এবং বক্তা। তিনি বাংলাদেশের একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার (২০০৭-২০১২),
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) । তিনি ৩২ টিরও বেশি বই
লিখেছেন এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হিসাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টেলিভিশনে
কলামিস্ট এবং ফ্রিল্যান্স ভাষ্যকার হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি আগস্ট ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী
সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এম সাখাওয়াত হোসেন ১৯৪৮
সালের ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের পূর্ব বাংলার বরিশালে একটি সুপরিচিত মুসলিম পরিবারে
জন্মগ্রহণ করেন । তিনি করাচি থেকে ১৯৬৩ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি)
, পাকিস্তানের ইসলামিয়া সায়েন্স কলেজ (করাচি) থেকে ১৯৬৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট
(এইচএসসি) অর্জন করেন ।
তিনি ১৯৬৬ সালে তৎকালীন
পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রায় দুবছর পাকিস্তানের
বন্দি শিবিরে কাটিয়ে ১৯৭৩ সালে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর
পর্যন্ত ঢাকায় ৪৬ ব্রিগেডে স্টাফ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি ১৯৭৯-৮১ সালে ঢাকায়
সেনাসদরে গুরুত্বপূর্ণ পদে অপারেশন ডাইরেক্টরেট নিয়োজিত হন। পরে তিনি ব্রিগেডের অধিনায়ক
হিসেবে দুটি ইনফেনট্রি ব্রিগেড ও একটি আর্টিলারি ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন। বাংলাদেশের
ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করে দ্বিতীয়বারের
মত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিখ্যাত ইউ এস এ কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ জেনারেল কলেজ
থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।
তিনি পাকিস্তানের ন্যাশনাল
ডিফেন্স এ ডি সি ইসলামাবাদ ইউনিভার্সিটির তত্ত্বাবধানে স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে মাস্টার্স
এবং ২০১১ সালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্, ঢাকা থেকে এমফিল ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে নিরাপত্তা, ভূ-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক
বিশ্লেষণধর্মী কলাম ও বইয়ের লেখক হিসেবে অধিক পরিচিত।
তাছাড়া দেশি-বিদেশি ইলেকট্রনিক
মিডিয়ায় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি এবং নির্বাচন বিষয়ে বিশ্লেষক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত।
এছাড়া ২০০৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বছর
তিনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ জানুয়ারি ঢাকার ধানমন্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সৈয়দ মহিবুল হাসান, মা সুরাইয়া
হাসান। বাবা-মায়ের একমাত্র কন্যা তিনি এবং পরিবারে সবার ছোট। তিনি সহপাঠী আইনবিদ ব্যবসায়ী
আবু বকর সিদ্দিক-এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি তিন সন্তানের জননী: মেয়ে নেহলা,
দুই ছেলে যাবির ও জিদান।
রিজওয়ানা হাসান ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে
এসএসসি পাস করেন। এরপর হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি
হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রথমে লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তি হলেও আইনের প্রতি আগ্রহ থেকে
পরে বিভাগ পরিবর্তন করে আইন বিভাগে ভর্তি হন। এবং সেখান থেকে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স
ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে এলএলএম সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশের বাইরে
বেশ কয়েকটি ফেলোশিপ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে
আইজেনহাওয়ার ফেলোশিপ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে যোগ দেন
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-তে। বেলা-ও তখন মাত্র যাত্রা শুরু করেছে। এরপর
১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে বেলা'র সংগঠক ও প্রধান জনাব মহিউদ্দিন ফারুক মৃত্যুবরণ করলে রিজওয়ানা
'কমনওয়েলথ বৃত্তি'র সুযোগ হাতছাড়া করে বেলা'র প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের
বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের "পরিবেশ পুরস্কার" এবং প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে
"গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ" প্রাপ্ত, এবং ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে টাইম
সাময়িকীর "হিরোজ অফ এনভায়রনমেন্ট" খেতাবপ্রাপ্ত বাংলাদেশী আইনজীবী ও পরিবেশকর্মী।
এছাড়া তিনি ২০১২ সালে রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার পান।
২০২২ সালে তিনি আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার পান।
শারমিন মুরশিদ
নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদ। তিনি একজন
সুপরিচিত নির্বাচন বিশেষজ্ঞ। তিনি নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ব্রতী’র প্রধান
নির্বাহী কর্মকর্তা।
দীর্ঘদিন ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পাশাপাশি মুক্ত গণতন্ত্র ও
দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পক্ষে শারমিন মুরশিদ কথা বলে
আসছেন।
শারমিন মুরশিদের বাবা খান সারওয়ার মুরশিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
প্রখ্যাত শিক্ষক ছিলেন। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
শারমিন মুরশিদের মা নূরজাহান মুরশিদ। তিনি ছিলেন সাংবাদিক, শিক্ষক ও
সমাজকর্মী।
সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘উত্তরসূরী’-এর মহাসচিবও শারমিন মুরশিদ।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ ‘মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী
সংস্থা’র সদস্য ছিলেন শারমিন মুরশিদ। এই সাংস্কৃতিক দল শরণার্থীশিবিরসহ বিভিন্ন
মুক্তাঞ্চলে যেত। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের
চেতনাকে উজ্জীবিত করতে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করত। পাপেট শোর আয়োজন করত।
মঞ্চনাটক করত। পরবর্তী সময় ১৯৯৫ সালে এই সাংস্কৃতিক দলটির কাজের ওপর ‘মুক্তির গান’
নামের একটি বিখ্যাত তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়।
আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৬ উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার
(৮ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ মোট ১৪ জন উপদেষ্টা শপথ গ্রহণ করেন।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন একজন
ইসলামী চিন্তাবিদ। তার মূল নাম আবুল ফয়েজ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন। তিনি ১৯৫৯ সালের ২
ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের মক্কার বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত
মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ একজন ইসলামী পণ্ডিত
ছিলেন। বাবুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে আ ফ ম খালিদ হোসের শিক্ষাজীবনের
সূচনা হয়। এখানে তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত
তিনি চট্টগ্রামের আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ায় লেখাপড়া করেন। ১৯৭১ সালে সাতকানিয়া
আলিয়া মাহমুদুল উলুম মাদরাসা থেকে প্রথম বিভাগে আলিম ও ১৯৭৩ সালে ফাজিল পাশ করেন।
১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত চট্টগ্রাম চন্দনপুরা দারুল উলুমে হাদিস অধ্যয়ন করেন। ১৯৭৫
সালে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
১৯৮২ সালে তিনি চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও ১৯৮৩ সালে একই
বিষয়ে এমএ পাস করেন। পরে ২০০৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ নিয়ে ‘হজরত মুহাম্মদ
(সা.) এর খুতবা : একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক গবেষণা’র ওপর পিএইচডি করেন খালিদ হোসেন।
তিনি হাকীমুল উম্মত খ্যাত
মাওলানা আশরাফ আলী থানভীর শিষ্য মুহাম্মদ আমিনের কাছে সহিহ বুখারি, চট্টগ্রামের মীরসরাই
থানার নিজামপুর এলাকার বাসিন্দা মতিউর রহমান নিযামীর কাছে সহিহ মুসলিম, ইসমাইল আরাকানি
কাসেমির কাছে সুনান আত-তিরমিজি, নাওয়াব হাসান কাসেমির কাছে সুনানে আবু দাউদ পড়েছেন।
চট্টগ্রামের আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার সাবেক মহাপরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম
বুখারি তার শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম।
ছাত্রজীবনে (১৯৭৩-১৯৮৪)
দৈনিক সংবাদ, দৈনিক বাংলার বাণী ও এর পটিয়া মহকুমা সংবাদদাতা এবং দ্যা নিউ ন্যাশন-এর
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৯৮৭ সালে সাতকানিয়া আলিয়া
মাহমুদুল উলুম ফাযিল মাদরাসায় আরবি ভাষা ও সাহিত্যের প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে
তার কর্মজীবনের শুরু হয়। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম ওমরগণি
এমইএস কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে নিয়োজিত
ছিলেন।
২০০৭ সাল থেকে আল-জামিয়া
আল-ইসলামিয়া পটিয়ার ধর্মীয় ও সাহিত্য বিষয়ক মুখপত্র মাসিক আত-তাওহীদের সম্পাদক
ও হালিশহর এ-ব্লক হজরত উসমান (রা.) জামে মসজিদের খতিব, আল জামিয়াতুল আরবিয়াতুল ইসলামিয়া
জিরির মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
এছাড়াও তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি
অব বাংলাদেশে দেড় বছর খণ্ডকালীন অধ্যাপক, মাওলানা হারুন ইসলামাবাদীর সময়ে আল-জামিয়া
আল-ইসলামিয়া পটিয়ার বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণা বিভাগে ৪ বছর, মাওলানা সুলতান যওক
নদভির আহ্বানে জামেয়া দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়ায় ‘ওসিলাতুল ইলাম’ বিষয়ে এক বছর
শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এরআগে ড. খালিদ হোসেন ওমরগণি
এমইএস কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। তা ছাড়া এশিয়ান
ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন।
ড. আফ ম খালিদ হোসেন ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা, মাসিক আত-তাওহিদের সম্পাদক, আরবি ও ইংরেজি মাসিক
বালাগুশ শরকের সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের কোরআনিক সায়েন্সেস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের
অতিথি শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন।
তিনি নেজামে ইসলাম পার্টির
ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।
২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর
তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির এবং ২০২১ সালের ২ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন
বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালের ৮ জুলাই থেকে তিনি চট্টগ্রামের
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআনিক সায়েন্সেস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে
অতিথি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।
ফরিদা আখতার
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ
নতুন এই সরকারের সদস্য সংখ্যা ১৭ জন। বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) রাতে শপথ গ্রহণ করে এই
অন্তর্বর্তী সরকার।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেখক, গবেষক ও আন্দোলনকর্মী ফরিদা আখতার।
তার জন্ম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ
থানার হারলা গ্রামে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছেন ফরিদা আখতার।
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের অবস্থা জানা এবং পরিবর্তনের জন্য নীতিনির্ধারণী
গবেষণা ও লেখালেখিই তার কাজের প্রধান জায়গা।
বর্তমানে তিনি উবিনীগ-এর
(উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার
প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে নারী ও গাছ, কৈজুরী গ্রামের নারী ও গাছের কথা।
তিনি নারী উন্নয়ন, স্বাস্থ্য,
কৃষি, মৎস্য সম্পদ, তাঁত শিল্প, গার্মেন্টস শিল্প ও শ্রমিক, জনসংখ্যা এবং উন্নয়নমূলক
বিষয়ে নিবিড়ভাবে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে কাজ করছেন।
নুরজাহান বেগম
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য সংখ্যা হচ্ছে ১৭ জন।
বৃহস্পতিবার এ সরকারের সদস্যের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। তাদের মধ্যে একজন নূর জাহান বেগম।
মিসেস নূর জাহান বেগম ২০১০
সালে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। এর আগে তিনি নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠান
গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যে দায়িত্ব
তিনি পেয়েছিলেন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুহাম্মদ ড. ইউনূসের কাছ থেকে। তিনি
এখন গ্রামীণ পরিবারের একটি অলাভজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্রামীণ শিক্ষার ব্যবস্থাপনা পরিচালক
হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৭৬ সালে যখন নূর জাহান
বেগম গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকল্প শুরু করেন তখন তিনি ড. ইউনূসের প্রথমসারির সহযোগীদের
একজন ছিলেন। মিসেস নুরজাহান, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন, গ্রামীণ
ব্যাংকের তৃণমূল গোষ্ঠীতে দরিদ্র গ্রামীণ মহিলাদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করেছিলেন। ব্যাংকের শুরুর দিকে এবং সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং দিনে তিনি গ্রামীণ
ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রথম ‘প্রিন্সিপাল’ ছিলেন।
নূর জাহান বেগম অনেক দেশে
মাইক্রো-ক্রেডিট প্রোগ্রামের পরামর্শদাতা, প্রশিক্ষক এবং মূল্যায়নকারী হিসেবে কাজ
করেছেন এবং বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সম্মেলন এবং সেমিনারে বক্তৃতা দিয়েছেন।
তিনি গ্রামীণ ফাউন্ডেশন, ইউএসএসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার বোর্ডেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ২০০৮ সালে গ্রামীণ
ফাউন্ডেশন কর্তৃক সুসান এম. ডেভিস লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এ ছাড়াও
তিনি ওয়ার্ল্ড সামিট মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস অ্যাওয়ার্ড ২০০৯ এবং ভিশন অ্যাওয়ার্ড
২০০৯-এ ভূষিত হন। তিনি ২০০৭ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ফরচুন মোস্ট পাওয়ারফুল
উইমেন সামিটে অংশগ্রহণ করেন এবং স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় অনুষ্ঠিত ফাউন্ডেশন ফর জাস্টিস
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতি নিযুক্ত হন ২০০৭ সালে।
নাহিদ ইসলাম
উপদেষ্টাদের মধ্যে আছেন
কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের ডাক দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের একজন
নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলামের ডাকনাম
"ফাহিম"। তার জন্ম ১৯৯৮ সালে ঢাকার বনশ্রীতে। বাবা বদরুল ইসলাম জামির পেশায়
স্কুলশিক্ষক ও মা মমতাজ নাহার গৃহিণী। ব্যক্তিগত জীবনে নাহিদ বিবাহিত।ছোট এক ভাই রয়েছে তাঁর। ২০১৪ সালে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী মডেল হাইস্কুল
থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসি পাস করে ২০১৬-১৭
সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০২২ সালে অনার্স পাস করেন
তিনি। বর্তমানে তিনি মাস্টার্স প্রোগ্রাম (এমএসএস) অধ্যায়নরত আছেন একই বিভাগে।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। সেখান থেকে নুরুল
হক নুরের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ছাত্র অধিকার পরিষদের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে যোগদেন। এসময়
তিনি এই সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালের ৩ জুলাই গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগে এনে ছাত্র অধিকার পরিষদ
থেকে একযোগে পদত্যাগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সব সদস্য যার মধ্যে নাহিদও ছিলেন।
এর কয়েকমাস পর ৩ অক্টোবর ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে
গঠন করা হয় গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি। নাহিদ বর্তমানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব
হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩ সালের
অক্টোবরে আত্মপ্রকাশের সময় বলা হয়েছিল, এটি ‘রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিমুক্ত স্বতন্ত্র
একটি ছাত্র সংগঠন’।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
সমন্বয়কদের একজন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আসিফ মাহমুদের জন্ম ১৪
জুলাই ১৯৯৮। বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আকুবপুর গ্রামে। তার
পিতার নাম মোঃ বিল্লাল হোসেন ও মাতার নাম রোকসানা বেগম। আসিফ মাহমুদ ঢাকার তেজগাঁও
থানার নাখালপাড়া হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। তিনি আদমজী ক্যান্টমেন্ট
কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কলেজটির বিএনসিসি ক্লাবের প্লাটুন সার্জেন্ট ছিলেন। কলেজ
থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। এখন তিনি স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন।
আসিফও ২০১৮ সালের কোটা
সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। এরপর ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে রাজনীতি শুরু করেন।
তিনি সর্বশেষ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব
পালন করেন। এরপর সংগঠনের গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তার নেতৃত্বে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কমিটি পদত্যাগ করে। এরপর ৩ অক্টোবর গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তির সূচনার পর তিনি সংগঠনটির
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সদস্য সচিব আসিফ।
ফারুক-ই-আজম
ফারুক-ই-আজম মুক্তিযুদ্ধের
একজন বীর। সাহসী এই যোদ্ধা বীর প্রতীক খেতাবও পেয়েছেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের
বছরে উচ্চমাধ্যমিক পাস করা ফারুক সে সময় খুলনায় ছিলেন। পরে অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে চট্টগ্রামে পৌঁছান।
তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে
ভারতের হরিণা ইয়ুথ ক্যাম্পে আশ্রয় নেন ৬ মে। পরে নৌবাহিনীর জন্য মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুট
করা হবে শুনলে তিনি সেখানে যোগ দেন।
মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র
সমন্বিত যুদ্ধাভিযান ছিল ‘অপারেশন জ্যাকপট’। এ অভিযানের মধ্য দিয়ে সারা দেশে একই সময়ে
সব বন্দরে একযোগে আক্রমণ চালানো হয়েছিল। সে জন্য এই আক্রমণের জন্য ২০ সদস্যের তিনটি
দল নির্বাচন করা হয়।
একটি দল তখন চট্টগ্রামে
এসে পৌঁছাতে পারেনি। অন্য যে দুটি দলের ৩৭ জন সদস্য অংশ নেন তার ছিলেন অধিনায়ক এ ডব্লিউ
চৌধুরী এবং উপ-অধিনায়ক ছিলেন ফারুক-ই-আজম।
১৯৭১ সালের ১৬ অগাস্ট প্রথম
প্রহরে দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা, এবং দুইটি নদী বন্দর -- চাঁদপুর
ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি
আত্মঘাতী অভিযান। এই অভিযানে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও
তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
এ অভিযানে অংশগ্রহণকারী
কোনো গেরিলা শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়েননি।
সুপ্রদীপ চাকমা
সুপ্রদীপ চাকমার জন্ম ১৯৬১
সালে খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
১৯৮৫ সালে সপ্তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন তিনি।
পররাষ্ট্র ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা ও সাবেক এই রাষ্ট্রদূত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে
দায়িত্ব পালন করেছেন।
মেক্সিকো ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশের
রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেছেন। রাবাত, ব্রাসেলস, আঙ্কারা এবং কলম্বোতে বাংলাদেশ
মিশনেও তিনি বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন।
বিধান রঞ্জন রায়
বিধান রঞ্জন রায় একজন মানসিক
চিকিৎসক ও মনরোগ বিশেষজ্ঞ । তিনি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক
ও পরিচালক।
মনোরোগ বিজ্ঞানে এমবিবিএস,
ডিপিএম, ও এমফিল ডিগ্রি নেওয়া এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মনোরোগ
বিভাগের বিভাগীয় প্রধানও ছিলেন।
বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহের
ইউনিয়ন স্পেশালাইজড হাসপাতালে কাজ করছেন।

0 মন্তব্যসমূহ