ডিম হলো সকালের নাস্তার প্রধান উপাদান, বেকিং এ অপরিহার্য, অন্যতম স্ন্যাকস। কিন্তু ডিমের ব্যপক জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও আপনি হয়তো এই তথ্যগুলো সম্পর্কে নাও জেনে থাকতে পারেন। আজ আমরা ডিম সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেব।

·  একটি ডিম আসলে একটি মাত্র কোষ, যা প্রকৃতিকভাবে বৃহত্তম কোষ! প্রকৃতপক্ষে, একটি উটপাখির ডিম সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক কোষ, এটি সকালের নাস্তায় প্রায় ২৪ জনকে পরিবেশন করা যাবে।

·  ডিমের খোসার রঙ কঠোরভাবে পাখির বংশের পরিচয়। আপনি সাধারণত একটি মুরগির কানের লতির রঙ দেখে বলতে পারেন কী রঙের ডিম দেবে। সাদা কানযুক্ত মুরগি সাদা ডিম দেয়, আর লাল কানযুক্ত মুরগি বাদামী ডিম দেয় এবং নীল-সবুজ কানযুক্ত মুরগি নীল-সবুজ ডিম দেয়!

·  আমেরিকানরা প্রতি বছর গড়ে ২৮১টি ডিম খায়, যা প্রায় ২৮৫ মিলিয়ন বা ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ মুরগিকে দিনরাত ব্যস্ত রাখে।

·  ডিম ভাল কিনা তা জানার জন্য একটি পুরানো ধাঁচের কিন্তু অকাট্য পরীক্ষাটি হলো একটি সম্পূর্ণ কাঁচা ডিমকে লবণের দ্রবণে (দুই কাপ পানিতে দুই টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে) আলতো করে ফেলে দিয়ে সম্পন্ন করা হয়, যদি খুব তাজা হয় তাবে ডিমটি পূর্ণ এবং ভারী হবে এবং এটি ডুবে যাবে। মাঝারিভাবে তাজা হলে, এটি একটি খাড়া অবস্থানে পানির মাঝখানে ভেসে থাকবে; আর যদি এটি পানির উপরে ভেসে উঠে  তবে এটি নষ্ট।

·  কাঁচা ডিমের কুসুমের কাছে যে সাদা, বাঁকানো উপাদান দেখা যায় তা হল ঘন অ্যালবুমেন, যা পুরো কুসুমের চারপাশে ঘন ডিমের সাদা অংশের একটি অংশ। এর উদ্দেশ্য হল ডিমের মধ্যে কুসুম কেন্দ্রীভূত রাখতে সাহায্য করা। তাজা, উচ্চ মানের ডিমগুলিতে অ্যালবুমেন বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

·  একটি মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা হওয়ার সময়কাল ২১ দিন।

·  একটি ডিম পাড়ার কিছুক্ষণ পরে এটি একটি আলোর উত্সের সামনে স্থাপন করে ভিতরের অবস্থা দেখা যায়। ক্যান্ডলিং নামক এই প্রক্রিয়ায় খোসার ফাটল বা কুসুমে নিরীহ কিন্তু অপ্রীতিকর রক্তের দাগ সনাক্ত করা যায়। এটি ডিমের ভিতর বায়ু কোষের আকারও প্রকাশ করে: এই কোষ যত ছোট, ডিম তত ভাল।

·  একটি অধিক-সিদ্ধ ডিমের কুসুমের চারপাশে একটি ক্ষতিকারক সবুজাভ ধূসর বর্ণের আয়রন এবং সালফারের যৌগ যাকে ফেরাস সালফাইড বলা হয় তৈরি হয়, এটি ডিম গরম করার সময় তৈরি হয়। এটির গঠন রোধ করতে, কুসুম জমাট বাধার জন্য যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ ডিম সিদ্ধ করুন এবং তারপরে এটি ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে দিন এবং দ্রুত খোসা ছাড়িয়ে ফেলুন।

·  যদিও বাদামী, সাদা এবং সবুজ ডিমের স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ মূলত একই, তবে বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যক্তি বা মানুষের আলাদা নির্দিষ্ট পছন্দ রয়েছে।

·  ডিম আপনার চোখের জন্য ভালো। এগুলিতে লুটেইন রয়েছে যা ছানি এবং পেশীর অবক্ষয় প্রতিরোধ করে।

·  একটি ডিমের খোসায় ১৭,০০০টি ছিদ্র থাকতে পারে।

·  ডিমের কুসুম এমন কয়েকটি খাবারের মধ্যে একটি যা প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ।

·  বাদামী ডিমের দাম বেশি কারণ এগুলো বড় হয় এবং মুরগির জন্য বেশি খাবারের প্রয়োজন হয়।

·  হাঁসের ডিমে চর্বি বেশি এবং বেকিংয়ের জন্য ভালো।

·  ডিমে প্রচুর পরিমাণে কোলিন থাকে যা কোষের স্বাভাবিক কার্যকলাপকে বাড়িয়ে দেয়।

·  একটি কাঁচা ডিম এবং একটি সেদ্ধ শক্ত ডিমের মধ্যে পার্থক্য হলো, এটিকে ঘোরান। শক্ত সেদ্ধ করা ডিম সহজেই ঘুরতে থাকে, কাঁচা ডিম টলমল করে।

·  আপনি যদি মেঝেতে একটি ডিম ফেলে দিয়ে থাকেন তবে সহজে পরিষ্কার করার জন্য এটিতে প্রচুর পরিমাণে লবণ ছিটিয়ে দিন।

·  ফ্রিজে এক সপ্তাহের চেয়ে ঘরের তাপমাত্রায় ডিমের বয়স একদিনে বেশি হয়।

·  একটি মুরগির একটি ডিম উৎপাদন করতে ২৪ থেকে ২৬ ঘন্টা সময় লাগে।

·  মুরগির বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের ডিম বড় হয়।

·  বিশ্বের দ্রুততম অমলেট প্রস্তুতকারক ৩০ মিনিটে ৪২৭টি দুটি ডিমের অমলেট তৈরি করেছেন।

·  ডিমে তা দেওয়ার সময় একটি মুরগি দিনে প্রায় ৫০ বার ডিম ঘুরিয়ে দেয় যাতে কুসুম পাশে লেগে না থাকে।

·  কিউইরা যে কোনো প্রজাতির পাখির দেহের আকারের তুলনায় সবচেয়ে বড় ডিম পাড়ে।

·  yolk” অর্থাৎ  "কুসুম" শব্দটি একটি পুরানো ইংরেজি শব্দ “yellow” থেকে এসেছে।

·  হ্যারিয়েট নামের যুক্তরাজ্যের একটি মুরগি ২০১০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিম পাড়ে। তার বিস্ময়কর ডিমের ব্যাস ছিল ৯.১ ইঞ্চি।

·  আমদের সাধারণত হাঁস বা টার্কির ডিমের পরিবর্তে মুরগির ডিম খাওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। মুরগি বেশি ডিম পাড়ে, তাদের বাসা বাঁধার জায়গা কম লাগে এবং মুরগির মধ্যে টার্কি এবং হাঁসের প্রবল মাতৃত্বের প্রবৃত্তি নেই, যা ডিম সংগ্রহকে সহজ করে তোলে।

·  কুসুম এবং সাদা অংশে একই পরিমাণ প্রোটিন থাকে

·  সব ডিমই হরমোন মুক্ত

·  এটি একটি সাধারণ ভুল ধারণা যে সাদা ডিমের তুলনায় বাদামী ডিমের খোসা বেশি মোটা থাকে। বাস্তবে, একটি ডিমের পুরুত্ব শুধুমাত্র মুরগির বয়সের উপর নির্ভর করে: অল্প বয়স্ক মুরগি শক্ত খোসার ডিম দেয়, আর বৃদ্ধ মুরগি পাতলা খোসার ডিম দেয়। মুরগির জাত বা ডিমের রঙ নির্বিশেষে এই পুরুত্ব ঘটবে।

·  অন্যদিকে ডিমের কুসুমের রঙ পুষ্টির পার্থক্য নির্দেশ করে

·  ডিমের কুসুম বিভিন্ন রঙের হতে পারে - ফ্যাকাশে হলুদ থেকে গভীর কমলা থেকে এমনকি একটি উজ্জ্বল লাল – এটি নির্ভর করে একটি মুরগির খাদ্যের উপর। যেহেতু মুক্ত থাকা মুরগিগুলি প্রায়শই বেশি রঙ্গকযুক্ত, পুষ্টিকর খাবার খায় যা পোকামাকড় থেকে ঘাস পর্যন্ত থাকে, এই মুরগির ডিমগুলিতে প্রায়শই সমৃদ্ধ রঙের কুসুম থাকে। অন্যদিকে, প্রচলিত, দানাদার খাবার খাওয়া মুরগি হালকা হলুদ কুসুম তৈরি করবে।

 এখন, এখানে একটি পুরানো প্রশ্ন: কোনটি প্রথমে এসেছে, মুরগি না ডিম?